Monday, June 30, 2025

ইরানের পরমাণু প্রকল্প ধ্বংস নিয়ে ট্রাম্প কি তাহলে মিথ্যা বলেছেন

 

জাতিসংঘের পরমাণু কর্মসূচিবিষয়ক পর্যবেক্ষক সংস্থা আইএইএর প্রধান রাফায়েল গ্রোসি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে পুরোপুরি ধ্বংস করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর মতে, তেহরান চাইলে কয়েক মাসের মধ্যেই আবার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম শুরু করতে সক্ষম হবে।

গ্রোসির এ মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের বিপরীত। ট্রাম্প বলেছিলেন, ওই হামলার ফলে ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ‘দশকের পর দশক পিছিয়ে গেছে’।

দেখা যাচ্ছে, গ্রোসির এ মূল্যায়ন মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার (ডিআইএ) প্রাথমিক বিশ্লেষণকে সমর্থন করে। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত সপ্তাহে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র যে হামলা চালায়, তাতে কেন্দ্রীয় অবকাঠামোগুলো ধ্বংস হয়নি। এতে ইরানের কর্মসূচি সাময়িকভাবে (সম্ভবত কয়েক মাসের জন্য) বাধাগ্রস্ত হয়েছেমাত্র।

চূড়ান্ত সামরিক ও গোয়েন্দা মূল্যায়ন প্রকাশ না পেলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলায় তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন’ করা হয়েছে।

গতকাল রোববার সিবিএসে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির-সাঈদ ইরাভানি বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম কখনোই বন্ধ হবে না। কারণ, ‘শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি’ ইরানের ‘অপরিহার্য অধিকার’।

জুন মাসের শুরুতে ইসরায়েলের নজিরবিহীন হামলার পর ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের সংঘাত শুরু হয়। তেল আবিবের ভাষ্য, এ হামলার লক্ষ্য ছিল তেহরানকে পারমাণবিক বোমা তৈরি থেকে বিরত রাখা। তবে ইরান শুরু থেকেই জোর দিয়ে বলছে, সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই তাদের পরমাণু কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। হামলায় তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কতটা ক্ষতি হয়েছে, তা নিয়ে এখনো জোর বিতর্ক চলছে।

গত কয়েক দিনে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে নতুন কিছু তথ্য প্রকাশ করেছেন। তবে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতায় এসবের কতটা প্রভাব পড়েছে, সে বিষয়ে কোনো নতুন প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

সপ্তাহজুড়ে গোপন সভার পর কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা স্বীকার করেছেন, এ হামলায় হয়তো ইরানের সব পারমাণবিক উপাদান ধ্বংস হয়নি। তবে তাঁদের দাবি, সেটা কখনোই সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল না।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যকার গোপন বার্তা সংগ্রহ করেছে। তাতে দেখা যায়, ওই কর্মকর্তারা নিজেরাই স্বীকার করছেন, হামলাগুলো তাঁদের আশঙ্কার তুলনায় কম ধ্বংসাত্মক ছিল।

গুরুতর ক্ষতি, তবে ‘পুরোপুরি’ ধ্বংস নয়

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা কী ধরনের প্রভাব ফেলেছে, তা নিয়ে চলমান বিভিন্ন মূল্যায়নের পটভূমিতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি মন্তব্য করেছেন, ‘বিধ্বংসী অস্ত্র নিয়ে এমন শুরুতেই এভাবে সিদ্ধান্তে আসা কোনোভাবেই কার্যকর কৌশল নয়।’ সিবিএস আয়োজিত ‘ফেস দ্য নেশন উইথ মার্গারেট ব্রেনান’ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গ্রোসি বলেন, ‘তাদের (ইরানের) সক্ষমতা এখনো অটুট আছে। আমি বলব, মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই তারা কয়েকটি সেন্ট্রিফিউজ চালু করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে, হয়তো তার আগেও এটা সম্ভব। তবে খোলাখুলি বললে, এটা বলা যাবে না যে সবকিছু নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে, আর কিছুই বাকি নেই।’

গ্রোসি আরও যোগ করেন, ‘এটা পরিষ্কার যে গুরুতর ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ ধ্বংস নয়। ইরানের সক্ষমতা রয়েছে, শিল্প ও প্রযুক্তিগত কাঠামো রয়েছে। তারা চাইলে যেকোনো সময় আবার কার্যক্রম শুরু করতে পারে।’

Saturday, June 28, 2025

‘ড্যাডি’ ট্রাম্পের কাছে যাওয়া ছাড়া উপায় ছিল না ইসরাইলের: আরাঘচি

সম্পূর্ণ নিউজ সময়
২২ টা ৩ মিনিট, ২৮ জুন ২০২৫

‘ড্যাডি’ ট্রাম্পের কাছে যাওয়া ছাড়া উপায় ছিল না ইসরাইলের: আরাঘচি

যুদ্ধবিরতির পর ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত আপাত বন্ধ আছে। কিন্তু উভয় পক্ষের নেতাদের মধ্যে বাগযুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। এই কথার লড়াইয়ে যোগ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও। এরই ধারাবাহিতায় ইসরাইলের দিকে তোপ দেগেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ছবি: রয়টার্স
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ছবি: রয়টার্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২ মিনিটে পড়ুন

শনিবার (২৮ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে আরাঘচি বলেছেন, ‘মহান ও শক্তিশালী ইরানি জনগণ বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে, আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ধ্বংস হওয়া থেকে বাঁচতে ইসরাইলি সরকারের ‘ড্যাডি’র (ট্রাম্প) কাছে ছুটে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।’

 
তিনি আরও বলেন, ‘যদি ফের তারা ভুল দিকে নিজেদের চালিত করে, ইরান আসল ক্ষমতা উন্মোচন করতে দ্বিধা করবে না। যা অবশ্যই ইরানের শক্তি সম্পর্কে যে কোনো বিভ্রান্তির অবসান ঘটাবে।’
 
ইরানের পরমাণু অস্ত্র অর্জন ঠেকানোর কথা বলে গত ১৩ জুন দেশটিতে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে ইসরাইল। সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনার পাশাপাশি পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে ইরানের সামরিক বাহিনীর বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ও পরমাণু বিজ্ঞানী নিহত হন।
 

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকেও হত্যার পরিকল্পনা করে ইসরাইল। কিন্তু তাতে সফল হয়নি। হামলা পাল্টা হামলার ১২ দিনের মাথায় ট্রাম্পের ঘোষণার মধ্যদিয়ে গত মঙ্গলবার (২৪ জুন) যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরাইল ও ইরান।
 
যুদ্ধবিরতির দুদিন পর গত বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) প্রকাশ্যে আসেন এবং জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ভাষণে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ‘বিজয় হয়েছে’ বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, ইরানি জনগণ তাদের ঐক্য প্রদর্শন করেছে-এই বার্তা দিয়েছে যে ‘আমাদের জনগণ এক কণ্ঠস্বর’।
 
খামেনি আরও বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ’ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু ‘এই ধরনের কথা মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুখে শোভা পায় না।’ তিনি বলেন, ‘ইরানের মতো একটি মহান দেশ ও জাতির জন্য আত্মসমর্পণের কথা বলাই অপমান।’
 
শুক্রবার (২৭ জুন) ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ভাষণের প্রতিক্রিয়া জানান ট্রাম্প। যুদ্ধে বিজয় দাবি করায় ঝাড়েন ক্ষোভ। ট্রুথ সোশ্যালে দীর্ঘ এক এক পোস্টে বলেন, খামেনিকে ‘লজ্জাজনক মৃত্যু’র হাত থেকে রক্ষা করলেও তিনি তাকে ধন্যবাদ জানাননি।
 

ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানে হামলা চালানোর সময় খামেনি কোথায় আশ্রয় নিয়েছিলেন তা তিনি জানতেন। কিন্তু ইসরাইলি ও মার্কিন বাহিনীকে তাকে হত্যা করতে দেননি তিনি। খামেনির যুদ্ধ জয়ের ঘোষণাকে ‘মিথ্যা ও বোকামিপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচনাও করেন ট্রাম্প।
 
কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই খামেনিকে নিয়ে করা ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাব দেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি মনেপ্রাণে চুক্তি করতে চান, তাহলে তাকে আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রতি অসম্মানজনক ভাষা ব্যবহার বন্ধ করতে হবে এবং তার কোটি ভক্তের অনুভূতিতে আঘাত দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।’