Thursday, November 6, 2025

লুইসভিল বিমানবন্দরে ইউপিএস বিমান দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে।

 সংস্থাটি বিমানে থাকা তিনজনের নাম প্রকাশ করেছে এবং তদন্তকারীরা নিশ্চিত করেছে যে বিমানের বাম ডানায় আগুন লেগেছে।


কেনটাকি ন্যাশনাল গার্ডের ৪১তম সিভিল সাপোর্ট টিমের সদস্যরা দুর্ঘটনাস্থল জরিপ করছেন। ছবি: ফিল স্পেক/এপি

লুইসভিল বিমানবন্দরে ইউপিএস বিমান দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩

বিমানের তিনজন নিহতের নাম প্রকাশ করেছে সংস্থাটি এবং তদন্তকারীরা নিশ্চিত করেছেন যে বিমানের বাম ডানা আগুনে পুড়ে গেছে


সাই নেফ এবং সংস্থাগুলি

শুক্রবার ৭ নভেম্বর ২০২৫ ০০.৪২ GMT

শেয়ার

ইউপিএস কার্গো বিমানের ইঞ্জিন বিচ্ছিন্ন হয়ে আগুনে পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে, লুইসভিলের মেয়র ক্রেগ গ্রিনবার্গ নিশ্চিত করেছেন যে ইউপিএস বিমানে থাকা তিনজনের নাম প্রকাশ করেছে।


“টিমস্টারদের জাগরণ অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে, আমি ইউপিএস ফ্লাইট ২৯৭৬ বিমান দুর্ঘটনায় ১৩ তম ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পেয়েছি। এই সপ্তাহের ট্র্যাজেডিতে যারা হারিয়ে গেছেন তাদের পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং সহকর্মীদের সাথে আমার হৃদয় রয়েছে। আমরা একসাথে এই শোক কাটিয়ে উঠব,” গ্রিনবার্গ একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লিখেছেন।


ইউপিএসের এক বিবৃতিতে ম্যাকডোনেল ডগলাস এমডি-১১-এর পাইলটদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে ক্যাপ্টেন রিচার্ড ওয়ার্টেনবার্গ, ফার্স্ট অফিসার লি ট্রুইট এবং আন্তর্জাতিক ত্রাণ কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ডানা ডায়মন্ড।


“আমাদের হৃদয় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি ইউপিএসারের জন্য এবং আমাদের লুইসভিল সম্প্রদায়ের সকলের জন্য - আপনাকে সমর্থন করা এবং আপনার প্রয়োজনীয় যত্ন এবং সংস্থান নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার,” কোম্পানির বিবৃতিতে বলা হয়েছে।


"আমাদের আশা এই মুহূর্তে আমরা সকল ক্ষতিগ্রস্তদের খুঁজে পেয়েছি। কিন্তু আবারও বলছি, আমরা জানি না," গ্রিনবার্গ দিনের শুরুতে বলেছিলেন।

বুধবার একজন ফেডারেল তদন্তকারী ঘোষণা করেন যে লুইসভিল মুহাম্মদ আলী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই ইউপিএস কার্গো বিমানের বাম ডানায় আগুন ধরে যায় এবং একটি ইঞ্জিন বিধ্বস্ত হয়, যার ফলে বিমানটি বিধ্বস্ত হয় এবং আগুনের গোলায় পরিণত হয়।

জাতীয় পরিবহন সুরক্ষা বোর্ড জানিয়েছে যে তারা বিমানটির রক্ষণাবেক্ষণের ইতিহাস তদন্ত করছে, যা দুর্ঘটনার কয়েক সপ্তাহ আগে মেরামতের জন্য টেক্সাসে ছিল।

রয়টার্স জানিয়েছে যে বিমানটি ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত টেক্সাসের সান আন্তোনিওতে মাটিতে ছিল।

"আমরা জানি যে এই বিমানটি সান আন্তোনিওতে ছিল," এনটিএসবি সদস্য টড ইনম্যান বৃহস্পতিবার নির্দিষ্ট সময়সীমা না দিয়ে বলেন। "আমরা সান আন্তোনিওর সময় থেকে শুরু করে উড্ডয়নের তারিখ পর্যন্ত করা প্রতিটি রক্ষণাবেক্ষণের অংশ খতিয়ে দেখব।"

ককপিট ভয়েস রেকর্ডার এবং ডেটা রেকর্ডার উদ্ধার করা হয়েছে এবং বিমানবন্দরে ইঞ্জিনটি আবিষ্কৃত হয়েছে।

ব্ল্যাক বক্স নামে পরিচিত রেকর্ডারগুলি দুর্ঘটনার প্রভাব এবং আগুনের তীব্র তাপ সহ্য করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল এবং দুর্ঘটনার ধ্বংসাবশেষের মধ্যে অবস্থান করার সময় এগুলি অক্ষত ছিল বলে মনে হয়েছিল। তদন্তকারীরা ব্ল্যাক বক্স থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করার পরিকল্পনা করছেন।

ইনম্যান বলেছেন যে বিমানের চূড়ান্ত তথ্য রেকর্ডিংয়ে দুর্ঘটনার আগে ৪৭৫ ফুট উচ্চতা এবং ২১০ মাইল প্রতি ঘণ্টা গতি দেখানো হয়েছে।

সিঙ্গাপুর-ভিত্তিক এসটি ইঞ্জিনিয়ারিং, যা বলেছে যে তারা ইউপিএসের এমডি-১১ বিমানের জন্য এয়ারফ্রেম রক্ষণাবেক্ষণ প্রদান করে এবং সান আন্তোনিওতে একটি মেরামত সুবিধা পরিচালনা করে, কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, তবে জানিয়েছে যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে।

১৮ সেপ্টেম্বর তারিখের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের রেকর্ড অনুসারে, সেন্টার উইং জ্বালানি ট্যাঙ্কের ভিতরে একটি কাঠামোগত অংশে ফাটল দেখা দেওয়ার জন্য মেরামতের প্রয়োজন ছিল।

এদিকে, বুধবার রাতে ইউপিএস ওয়ার্ল্ডপোর্টের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে, যার মধ্যে নেক্সট ডে এয়ার বা নাইট সর্ট, অপারেশন রয়েছে, মুখপাত্র জিম মেয়ার বলেছেন। লুইসভিল মুহাম্মদ আলী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তিনটি রানওয়েও আবার খোলা হয়েছে।

লুইসভিলে অবস্থিত ইউপিএস প্যাকেজ হ্যান্ডলিং সুবিধাটি কোম্পানির বৃহত্তম। হাবটি এই অঞ্চলে ২০,০০০ এরও বেশি লোককে নিয়োগ করে, প্রতিদিন ৩০০ টি ফ্লাইট পরিচালনা করে এবং প্রতি ঘন্টায় ৪০০,০০০ এরও বেশি প্যাকেজ বাছাই করে।

৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় স্থানীয় টিমস্টার্স ইউনিয়ন কর্তৃক একটি মোমবাতি প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যা কোম্পানির বৃহত্তম বিমান পরিবহন কেন্দ্র লুইসভিল বিমানবন্দরের শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব করে।

টিমস্টার্স লোকাল ৮৯, যা ইউপিএস কর্মীদের প্রতিনিধিত্ব করে, বিকেল ৫.১৪ মিনিটে এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে জাগরণ শুরু করে, যা দুই দিন আগে দুর্ঘটনার আনুমানিক সময় ছিল।

"এই ঘটনাটি এত আকস্মিক, এত অপ্রত্যাশিত," মেয়র ২০০ জনের জনতাকে বলেন। "আমরা যাদের হারিয়েছি তাদের কাউকেই বিদায় জানানোর সুযোগ কারোরই ছিল না।"


Monday, June 30, 2025

ইরানের পরমাণু প্রকল্প ধ্বংস নিয়ে ট্রাম্প কি তাহলে মিথ্যা বলেছেন

 

জাতিসংঘের পরমাণু কর্মসূচিবিষয়ক পর্যবেক্ষক সংস্থা আইএইএর প্রধান রাফায়েল গ্রোসি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে পুরোপুরি ধ্বংস করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর মতে, তেহরান চাইলে কয়েক মাসের মধ্যেই আবার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম শুরু করতে সক্ষম হবে।

গ্রোসির এ মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের বিপরীত। ট্রাম্প বলেছিলেন, ওই হামলার ফলে ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ‘দশকের পর দশক পিছিয়ে গেছে’।

দেখা যাচ্ছে, গ্রোসির এ মূল্যায়ন মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার (ডিআইএ) প্রাথমিক বিশ্লেষণকে সমর্থন করে। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত সপ্তাহে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র যে হামলা চালায়, তাতে কেন্দ্রীয় অবকাঠামোগুলো ধ্বংস হয়নি। এতে ইরানের কর্মসূচি সাময়িকভাবে (সম্ভবত কয়েক মাসের জন্য) বাধাগ্রস্ত হয়েছেমাত্র।

চূড়ান্ত সামরিক ও গোয়েন্দা মূল্যায়ন প্রকাশ না পেলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলায় তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন’ করা হয়েছে।

গতকাল রোববার সিবিএসে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির-সাঈদ ইরাভানি বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম কখনোই বন্ধ হবে না। কারণ, ‘শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি’ ইরানের ‘অপরিহার্য অধিকার’।

জুন মাসের শুরুতে ইসরায়েলের নজিরবিহীন হামলার পর ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের সংঘাত শুরু হয়। তেল আবিবের ভাষ্য, এ হামলার লক্ষ্য ছিল তেহরানকে পারমাণবিক বোমা তৈরি থেকে বিরত রাখা। তবে ইরান শুরু থেকেই জোর দিয়ে বলছে, সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই তাদের পরমাণু কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। হামলায় তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কতটা ক্ষতি হয়েছে, তা নিয়ে এখনো জোর বিতর্ক চলছে।

গত কয়েক দিনে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে নতুন কিছু তথ্য প্রকাশ করেছেন। তবে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতায় এসবের কতটা প্রভাব পড়েছে, সে বিষয়ে কোনো নতুন প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

সপ্তাহজুড়ে গোপন সভার পর কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা স্বীকার করেছেন, এ হামলায় হয়তো ইরানের সব পারমাণবিক উপাদান ধ্বংস হয়নি। তবে তাঁদের দাবি, সেটা কখনোই সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল না।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যকার গোপন বার্তা সংগ্রহ করেছে। তাতে দেখা যায়, ওই কর্মকর্তারা নিজেরাই স্বীকার করছেন, হামলাগুলো তাঁদের আশঙ্কার তুলনায় কম ধ্বংসাত্মক ছিল।

গুরুতর ক্ষতি, তবে ‘পুরোপুরি’ ধ্বংস নয়

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা কী ধরনের প্রভাব ফেলেছে, তা নিয়ে চলমান বিভিন্ন মূল্যায়নের পটভূমিতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি মন্তব্য করেছেন, ‘বিধ্বংসী অস্ত্র নিয়ে এমন শুরুতেই এভাবে সিদ্ধান্তে আসা কোনোভাবেই কার্যকর কৌশল নয়।’ সিবিএস আয়োজিত ‘ফেস দ্য নেশন উইথ মার্গারেট ব্রেনান’ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গ্রোসি বলেন, ‘তাদের (ইরানের) সক্ষমতা এখনো অটুট আছে। আমি বলব, মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই তারা কয়েকটি সেন্ট্রিফিউজ চালু করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে, হয়তো তার আগেও এটা সম্ভব। তবে খোলাখুলি বললে, এটা বলা যাবে না যে সবকিছু নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে, আর কিছুই বাকি নেই।’

গ্রোসি আরও যোগ করেন, ‘এটা পরিষ্কার যে গুরুতর ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ ধ্বংস নয়। ইরানের সক্ষমতা রয়েছে, শিল্প ও প্রযুক্তিগত কাঠামো রয়েছে। তারা চাইলে যেকোনো সময় আবার কার্যক্রম শুরু করতে পারে।’

Saturday, June 28, 2025

‘ড্যাডি’ ট্রাম্পের কাছে যাওয়া ছাড়া উপায় ছিল না ইসরাইলের: আরাঘচি

সম্পূর্ণ নিউজ সময়
২২ টা ৩ মিনিট, ২৮ জুন ২০২৫

‘ড্যাডি’ ট্রাম্পের কাছে যাওয়া ছাড়া উপায় ছিল না ইসরাইলের: আরাঘচি

যুদ্ধবিরতির পর ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত আপাত বন্ধ আছে। কিন্তু উভয় পক্ষের নেতাদের মধ্যে বাগযুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। এই কথার লড়াইয়ে যোগ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও। এরই ধারাবাহিতায় ইসরাইলের দিকে তোপ দেগেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ছবি: রয়টার্স
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ছবি: রয়টার্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২ মিনিটে পড়ুন

শনিবার (২৮ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে আরাঘচি বলেছেন, ‘মহান ও শক্তিশালী ইরানি জনগণ বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে, আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ধ্বংস হওয়া থেকে বাঁচতে ইসরাইলি সরকারের ‘ড্যাডি’র (ট্রাম্প) কাছে ছুটে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।’

 
তিনি আরও বলেন, ‘যদি ফের তারা ভুল দিকে নিজেদের চালিত করে, ইরান আসল ক্ষমতা উন্মোচন করতে দ্বিধা করবে না। যা অবশ্যই ইরানের শক্তি সম্পর্কে যে কোনো বিভ্রান্তির অবসান ঘটাবে।’
 
ইরানের পরমাণু অস্ত্র অর্জন ঠেকানোর কথা বলে গত ১৩ জুন দেশটিতে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে ইসরাইল। সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনার পাশাপাশি পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে ইরানের সামরিক বাহিনীর বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ও পরমাণু বিজ্ঞানী নিহত হন।
 

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকেও হত্যার পরিকল্পনা করে ইসরাইল। কিন্তু তাতে সফল হয়নি। হামলা পাল্টা হামলার ১২ দিনের মাথায় ট্রাম্পের ঘোষণার মধ্যদিয়ে গত মঙ্গলবার (২৪ জুন) যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরাইল ও ইরান।
 
যুদ্ধবিরতির দুদিন পর গত বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) প্রকাশ্যে আসেন এবং জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ভাষণে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ‘বিজয় হয়েছে’ বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, ইরানি জনগণ তাদের ঐক্য প্রদর্শন করেছে-এই বার্তা দিয়েছে যে ‘আমাদের জনগণ এক কণ্ঠস্বর’।
 
খামেনি আরও বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ’ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু ‘এই ধরনের কথা মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুখে শোভা পায় না।’ তিনি বলেন, ‘ইরানের মতো একটি মহান দেশ ও জাতির জন্য আত্মসমর্পণের কথা বলাই অপমান।’
 
শুক্রবার (২৭ জুন) ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ভাষণের প্রতিক্রিয়া জানান ট্রাম্প। যুদ্ধে বিজয় দাবি করায় ঝাড়েন ক্ষোভ। ট্রুথ সোশ্যালে দীর্ঘ এক এক পোস্টে বলেন, খামেনিকে ‘লজ্জাজনক মৃত্যু’র হাত থেকে রক্ষা করলেও তিনি তাকে ধন্যবাদ জানাননি।
 

ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানে হামলা চালানোর সময় খামেনি কোথায় আশ্রয় নিয়েছিলেন তা তিনি জানতেন। কিন্তু ইসরাইলি ও মার্কিন বাহিনীকে তাকে হত্যা করতে দেননি তিনি। খামেনির যুদ্ধ জয়ের ঘোষণাকে ‘মিথ্যা ও বোকামিপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচনাও করেন ট্রাম্প।
 
কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই খামেনিকে নিয়ে করা ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাব দেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি মনেপ্রাণে চুক্তি করতে চান, তাহলে তাকে আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রতি অসম্মানজনক ভাষা ব্যবহার বন্ধ করতে হবে এবং তার কোটি ভক্তের অনুভূতিতে আঘাত দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।’