Thursday, March 13, 2025

ঢাকার সামরিক হাসপাতাল থেকে হেলিকপ্টারে সরাসরি মাগুরায় নেয়া হয় শিশুটির মরদেহ, সেখানেই হলো জানাজা

 প্রায় আট দিন হাসপাতালে শারীরিক পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করে শেষপর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হেরে যায় মাগুরার আট বছর বয়সী শিশুটি। আজই সন্ধ্যায় তার মরদেহ দাফনের জন্য সামরিক হেলিকপ্টারে করে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল থেকে সরাসরি মাগুরায় নেওয়া হয় বলে তার পরিবার জানিয়েছে।

বোনের শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে গিয়ে গত পাঁচই মার্চ সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

আজ বৃহস্পতিবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে শিশুটির মৃত্যুর খবর জানানো হয়। এতে বলা হয়, দুপুর একটার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

উল্লেখ্য, গত আট মার্চ শিশুটিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে সিএমএইচ-এ নেওয়া হয়। গতকাল বুধবার চার বার এবং আজ সকাল থেকে আরও তিন বার তার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছে বলেও জানানো হয়।

এই শিশুটির যৌন নিপীড়নসহ সাম্প্রতিক বেশি কয়েকটি নারী নিপীড়ন ও হেনস্তার ঘটনায় সম্প্রতি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ হয়। এসব বিক্ষোভ থেকে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের দ্রুত বিচার এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে।

এদিকে, শিশুটির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। আসামিদের দ্রুত বিচারের আওতায় নিয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও শোক প্রকাশ করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মাগুরার এই ঘটনায় সাত দিনের মধ্যে বিচারকাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।

হেলিকপ্টারে করে নেওয়া হয় মরদেহ

শিশুটির মামার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিবিসি বাংলাকে জানান, সেনাবাহিনীর উদ্যোগে মরদেহ মাগুরায় নেওয়া হয়। সেখানে সন্ধ্যায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

মাগুরায় শিশুটি চাচার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ধর্ষণের মামলার তদন্তে আজও পুলিশ শিশুটির বাড়িতে এসেছিল।

মাগুরা সদর থানার ইন্সপেক্টর ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বিবিসি বাংলাকে বলেন, কেউ যদি ধর্ষণের পর হত্যার চেষ্টা করে বা এখন যেহেতু মারা গেছে, তাই নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে হত্যা সংক্রান্ত যে বিধান আছে, সে অনুযায়ী বিচার চলবে। সেভাবেই চার্জশিট দেওয়া হবে। যত দ্রুত সম্ভব প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

এই মামলায় এখন চার জন আটক আছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ধর্ষণের অভিযোগ বিষয়ে গ্রেফতার ব্যক্তিদের কেউ স্বীকারোক্তি বা অন্য কোনো তথ্য দিয়েছে কিনা জানতে চাইলে মো. আলাউদ্দিন বলেন, ডিএনএ রিপোর্ট, ডাক্তারের প্রতিবেদন এসবের ভিত্তিতে প্রমাণিত হবে এটা ধর্ষণ নাকি অন্য কিছু। এর আগে আমাদের বলার কোনো এখতিয়ার বা সুযোগ নেই।

Tuesday, February 25, 2025

Online earning 2025 letested

 আপনার দক্ষতা, আগ্রহ এবং প্রচেষ্টার উপর নির্ভর করে অনলাইনে অর্থোপার্জনের অনেক উপায় রয়েছে। 

এখানে কিছু জনপ্রিয় বিকল্প রয়েছে:



 ফ্রিল্যান্সিং Upwork, Fiverr, বা Freelancer (লেখা, গ্রাফিক ডিজাইন, প্রোগ্রামিং ইত্যাদি) পরিষেবাগুলি অফার করুন।

 ভার্চুয়াল সহকারী চাকরি (ইমেল ব্যবস্থাপনা, ডেটা এন্ট্রি, সময়সূচী)। বিষয়বস্তু তৈরি একটি YouTube চ্যানেল শুরু করুন (বিজ্ঞাপন আয়, স্পনসরশিপ)। বিজ্ঞাপন এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে একটি ব্লগ নগদীকরণ করুন। একজন TikTok বা Instagram প্রভাবক হন এবং ব্র্যান্ডের সাথে কাজ করুন। 

অনলাইন সেলিং এবং ই-কমার্স Etsy, eBay, বা Amazon-এ পণ্য বিক্রি করুন (হস্তনির্মিত, ড্রপশিপিং, প্রিন্ট-অন-ডিমান্ড)।



 Shopify বা WooCommerce ব্যবহার করে একটি অনলাইন স্টোর শুরু করুন। 

বিনিয়োগ এবং প্যাসিভ ইনকাম স্টক, ক্রিপ্টো বা রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করুন (মূলধন এবং জ্ঞান প্রয়োজন)। 

লভ্যাংশ বা ক্রিপ্টোতে শেয়ারের মাধ্যমে উপার্জন করুন। শিক্ষাদান ও কোচিং Udemy, Teachable, বা Skillshare-এ অনলাইন কোর্স বিক্রি করুন।

 Chegg, Preply, বা Wyzant এর মাধ্যমে টিউটরিং অফার করুন। সমীক্ষা, পরীক্ষা এবং মাইক্রোটাস্ক সমীক্ষার জন্য অর্থ পান (Swagbucks, InboxDollars)। 

UserTesting দিয়ে ওয়েবসাইট পরীক্ষা করুন।

 অ্যামাজন মেকানিক্যাল তুর্কে মাইক্রোটাস্ক করুন। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং পণ্যের প্রচার করুন এবং একটি কমিশন উপার্জন করুন (Amazon Associates, ClickBank)। 

প্রচারের জন্য একটি ব্লগ, ইউটিউব বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করুন। আপনি সবচেয়ে আগ্রহী এই কোনটি? আমি নির্দিষ্ট ধাপে সাহায্য করতে পারি।

Saturday, May 26, 2018

ম্যারাডোনার গোল আর আর্জেন্টিনার দুঃখ



বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখেন সব ফুটবলার। সে স্বপ্নটা চুরমার হয়ে গেলে অনেকেই নিয়ে বসেন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। বেলজিয়াম দলে সুযোগ না পেয়ে অবসর নিয়ে নিয়েছেন রাজা নাইনগোলান। জার্মানি দলে সুযোগ না পেয়ে তাঁর আগেই সে পথে হেঁটেছেন সান্ড্রো ভাগনার। আর চূড়ান্ত ২৩ জনের দলে না থাকায় রাগ করে বদলিদের তালিকা থেকে নাম সরিয়ে নিয়েছেন ফ্রান্সের রাবিওত।
এ তিনজনেরই বয়স ত্রিশ বা এর নিচে। তাঁরা হয়তো ডেভিড জেমসের নামটি ভুলে গিয়ে থাকবেন। ২০১০ বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের গোলবার সামলেছিলেন জেমস। বিশ্বকাপে সেদিনই অভিষেক তাঁর। ৩৯ বছর ৩২১ দিন বয়সে এসে স্বপ্নপূরণ করেছেন এই গোলরক্ষক। নাইনগোলান কিংবা ভাগনার সিদ্ধান্ত বদলানোর কথা ভাবতেই পারেন।
জেমস তবু বিশ্বকাপে জায়গা করেছেন। ম্যাকডোনাল্ড টেলরের গল্পটা তো আরও মজার। ইউএস ভার্জিন আইল্যান্ডের হয়ে সেইন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন টেলর সিনিয়র। ৪৬ বছর ১৭৫ দিন বয়সে খেলতে নেমে বাছাইপর্বের সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড়ের রেকর্ড করেছেন টেলর। দিনটা মনে রাখতে পারেন চাইলে, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০০৪। আর জেমস বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সে অভিষেকের রেকর্ড করেছিলেন এর ঠিক ৬ বছর ৪ মাস পর, ১৮ জুন, ২০১০ সালে।
১৮ সংখ্যার সঙ্গে আর্জেন্টিনার কিন্তু অম্লমধুর সম্পর্ক। দেশটির ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় ডিয়েগো ম্যারাডোনা ১৯৮২ সালের ১৮ জুন বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল করেছিলেন। আর বিশ্বকাপের এক আসরে আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ গোলও ১৮টি। বিশ্বকাপে এক আসরে ১৮ গোল করার রেকর্ড আছে ব্রাজিল ও জার্মানির। তবে ২০০২ ও ২০১৪ বিশ্বকাপে এ দুই দল ১৮ গোল করে বিশ্বকাপ জিতলেও ১৯৩০ বিশ্বকাপ থেকে খালি হাতে ফিরেছিল আর্জেন্টিনা। ১৯৭৮ ও ’৮৬-এর বিশ্বকাপ জিতলেও ১৮ গোলের রেকর্ড ছুঁতে পারেনি আর্জেন্টিনা।
আরেকটি রেকর্ডে অবশ্য আর্জেন্টিনাকে সঙ্গী রাখেনি ব্রাজিল-জার্মানি। বিশ্বকাপে টানা ম্যাচে গোলের রেকর্ড এ দুই দলের। ১৯৩০ থেকে ১৯৫৮ বিশ্বকাপ পর্যন্ত টানা ১৮ ম্যাচে অন্তত ১ গোল করেছে ব্রাজিল। এক বিশ্বকাপ পরে শুরু করলেও ১৯৫৮ বিশ্বকাপের মধ্যেই টানা ১৮ ম্যাচে গোলের রেকর্ড গড়েছিল জার্মানিও।

Wednesday, June 1, 2016

Union chairman Abid government ahead of the forthcoming UP nibacane uttaragrama




Mahadebapurera Daily News 
Wednesday 1 June 016 
1423 18 senior | 4 Shaban 1437 Hijri Staff Reporter, Naogaon: June 4, Elias upcoming Union Parishad elections in Naogaon district BNP president uttaragrama Union ceyaramyara at Union Party candidate Haji Abid bidrahi up with the symbol of the motorcycle. Abid voters in this election as the candidate nominated by the government to set up a chair. The bhotara Suman, Raju, hehedi gayesa Ali, Abu Hassan AL Carmi symbol sheaf of paddy in favor of giving voters the party dedicated leader Haji Abid ganasayoga, voters vote bhiksaya door is busy disposing of the leaders and activists. 1 of 9 hundred thousand "in accordance with its decision of 8 voters elected as chairman Haji Abid government wants to let haibrita and kholasapara netadeo mukhosa. #



Arafat

Friday, May 27, 2016

ইন্টারনেটে যা কিছু প্রথম

রাজধানীর স্মার্টফোনের বাজারগুলো বরাবরের মতোই বেশ জমজমাট। বাজারে ক্রেতাদের ভিড়ও চোখে পড়ার মতো। রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং সেন্টারের সেল ওয়ানের স্বত্বাধিকারী এস এম মিজানুর রহমান গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখন বিক্রি তুলনামূলকভাবে অনেক ভালো। তা ছাড়া রোজা ও ঈদ সামনে রেখে নতুন নতুন মডেলের স্মার্টফোন বাজারে আসবে বলে আসা করছি। বিক্রিও বাড়বে।’ গতকাল রাজধানীর একাধিক বাজার ঘুরে পাওয়া স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট কম্পিউটারের দাম দেওয়া হলো।
স্মার্টফোন
স্যামসাং: গ্যালাক্সি জে-ফাইভ ১৮,৯০০ টাকা; গ্যালাক্সি জে-সেভেন ২১,৯০০; গ্যালাক্সি এ-ফাইভ ২৪,৯০০; গ্যালাক্সি এ-এইট ৪৪,৯০০; গ্যালাক্সি এস-সিক্স ৪৪,৯০০; গ্যালাক্সি জে-ওয়ান ৬,৯৯০ এবং গ্যালাক্সি নোট ফোর ৪৯,৯০০ টাকা। অ্যাপল: আইফোন ফাইভ-এস ১৬ গিগাবাইট (গি.বা.) ৬২,৫০০; আইফোন সিক্স ১৬ গি.বা. ৭৩,৮০০ ও আইফোন সিক্স ৬৪ গি.বা. ৮৫,২০০; সিক্স প্লাস ১৬ গি.বা. ৮৫,২০০; সিক্স প্লাস ৬৪ গি.বা. ৯৬,৫৭৫ ও সিক্স প্লাস ১২৮ গি.বা. ১০৮,০০০ টাকা। মাইক্রোসফট: লুমিয়া ৭৩০ ২১,৫০০; লুমিয়া-৫৩৫ ১১,৫০০; লুমিয়া-৫৩৫ ১১,৫৯৯; লুমিয়া-৬২৫ ১৯,৫০০ টাকা। সিম্ফনি: ই৭৮ ৩,৫৯০; এইচ৬০ ৭,২৯০ ও এইচ২৫০ ৯,৯৯০; এম১ ৬,১৯০; পিসিক্স ৮,৯৯০; পিসিক্স প্রো ১০,৪৯০ ও পিসিক্স (২ গি.বা.) ১০,৪৯০ টাকা। ওয়ালটন: আরএক্স-৩ ১৩,৯৯০; আর এক্সটু ১২,৯৯০ ও প্রিমো জেডওয়ান ২৮,৯০০; জিএম ৯,২৯০; এনএক্স-২ ১৪,৪৯০; এনএক্স ১৭,৯৯০; জি৫ ৮,৯০০ ও জিথ্রি ১০,৯৯০ টাকা। গোল্ডবার্গ: জ্যাপ এফএক্সওয়ান ৬,৯৯৯;  ইভিও ভিএক্স ওয়ান ৪,৫৯৯; ডিসকভারি জেডএল ৫,৮৯৯; হুয়াওয়ে: পি-৮ ৪৯,৯৯০ ও পি লাইট ২২,৪৯০; মিনি গ্লোড ১৫,৯০০; আনার ওয়াই-৫ সি ৬,৯৯০;  অ্যাসেন্ড জি-৬১০ ১৩,৫০০; জি-৬৩০ ১৫,৪৯০ টাকা। অপ্পো: নিও-৩ ১৪,৮০০; আরওয়ানকে ৩২,০০০; ফাইন্ড ৭ ৪৯,৯০০ ও ফইন্ড৭এ ৪১,০০০ টাকা।
ট্যাবলেট
অ্যাপল: আইপ্যাড মিনি ১৬ গি.বা. ৪৬,০০০; ৩২ গি.বা. ৫০,০০০; ৬৪ গি.বা. ৬০,০০০; আইপ্যাড টু ১৬ গি.বা. ৪৭,০০০; ফোর ৮ গি.বা. ৩৯,০০০; ৩২ গি.বা. ৫০,০০০ ও ৬৪ গি.বা. ৬০,৫০০ টাকা। স্যামসাং: গ্যালাক্সি ট্যাব ফোর ৭.০ ৮ গি.বা. ১৯,৯০০; ট্যাব ফোর ১০.১ ১৬ গি.বা. ৩০,০০০; ট্যাব এস ৮.৪ ৩৫,৯০০ ও ট্যাব এস-১০.১ ৬৩,০০০ টাকা। লেনোভো: এ৭-৫০ ৭ ইঞ্চি ৮ গি.বা. ১৭,৫০০; ইয়োগা ৮ ২৭,৫০০ ও ইয়োগা ১০ ২৯,৫০০ টাকা।
বাজারে নতুন
স্মার্টফোন
অ্যাপল: আইফোন ফাইভ এসই ১৬ গি.বা. ৪২,৫০০; ও আইফোন ফাইভ এসই ৬৪ গি.বা. ৫০,০০০ টাকা। উই: এল ওয়ান ৪,২৫০; আর ওয়ান ৫,৯০০; বি ওয়ান ৭,৭০০ ও এক্স ওয়ান ১৮,৬০০ টাকা। সিম্ফনি: এইচ১৭৫ ৯,৯৯০; এইচ১৭৫ ১০,৪৯০; ভি৮৫ ৬,৯৯০ ও ভি৪৯ ৫,২৯০ টাকা। হুয়াওয়ে: জিআর-৩ ১৯,৯৯০; জিআর-৫ ২২,৯৯০ ও মেট-৮ ৫৯,৯৯০ টাকা। ওকাপিয়া: সিগনেচার ৯,৯৯০ টাকা৷ স্যামসাং: গ্যালাক্সি জে-৩ ১৪,৯৯০ টাকা। ওয়ালটন: প্রিমো জেড ২৮,৯৯০ ও এক্স-২ ১২,৯৯০ টাকা। ওকাপিয়া: এয়ার ৯,৯৯০ ও ম্যাজিক প্রো ৬,৪৯০ টাকা। অ্যালকাটেল: আইডল প্লাস ১২,৯৯৯ টাকা। অপ্পো: আর সেভেন ৩৬,০০০ টাকা।
ট্যাবলেট কম্পিউটার
স্যামসাং: গ্যালাক্সি ট্যাব ৯.৬ ইঞ্চি ২৪,৯০০; গ্যালাক্সি ট্যাব এস ১০.৫ ইঞ্চি ৫৩,০০০; ট্যাব ফোর ৭ ইঞ্চি ১৯,৯০০ টাকা। আসুস: ট্রান্সফরমার টি-১০০ টিএম ১০.৫ ইঞ্চি ৩৭,০০০ টাকা। লেনোভো: এ৭-৩০ ৮ ইঞ্চি ১৪,৫০০ টাকা। মাইসেল: পি-৮ স্মার্টট্যাব ৭,৪৯০ টাকা।

Sunday, April 24, 2016

অধ্যাপককে কুপিয়ে হত্যা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও একজন শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে ক্লাস নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে শহরের শালবাগান এলাকায় হামলার শিকার হন ইংরেজির অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী (৫৮)। গত এক যুগে এ নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন অধ্যাপক খুন হলেন।
পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে এই হত্যাকাণ্ডের কোনো কারণ জানাতে পারেনি। তবে হত্যাকাণ্ডের ধরন দেখে বলছে, অন্যান্য ব্লগার ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্টদের হত্যার সঙ্গে এই হত্যার মিল রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জঙ্গি তৎপরতা নজরদারির ওয়েবসাইট ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ’ গতকাল এক টুইটার বার্তায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) পরিচালিত আমাক নিউজ এজেন্সির বরাতে জানিয়েছে, অধ্যাপক রেজাউল করিম হত্যার দায় স্বীকার করেছে আইএস। টুইটার বার্তায় বলা হয়, ‘নাস্তিকতার দিকে আহ্বান জানানোর’ দায়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই অধ্যাপককে হত্যা করেছে আইএস। তবে এর আগে সর্বশেষ অধ্যাপক শফিউল ইসলাম হত্যার দায় স্বীকার করেছিল আনসার আল ইসলাম (আনসারুল্লা বাংলা টিমের নতুন নাম)।
রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সামসুদ্দিন জানিয়েছেন, বোয়ালিয়া থানার শালবাগান এলাকার নিজ বাসায় পরিবার নিয়ে থাকতেন অধ্যাপক রেজাউল। কাল সকালে বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য রওনা হয়েছিলেন তিনি। পথে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পুলিশ কমিশনার সাংবাদিকদের বলেন, সারা দেশে ব্লগার হত্যার ধরনের সঙ্গে এই হত্যার মিল রয়েছে। এ থেকে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের হাতে তিনি খুন হয়েছেন।
.নিহত অধ্যাপকের ভাই সিরাজুল করিম সিদ্দিকী নাটোরের সিংড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। তিনি বলেন, রেজাউল করিম বাসার দ্বিতীয় তলায় থাকতেন। বাসা থেকে রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়ক দু-তিন মিনিটের হাঁটা পথ। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া জন্য তিনি মহাসড়কের কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন। মহাসড়কের আগে একটি গলিপথে তাঁকে হত্যা করা হয়।
ঘটনাস্থলে একটি বাসার সামনে অধ্যাপক রেজাউলের লাশ উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পেছন থেকে তাঁর ঘাড়ে কোপ দেওয়া হয়েছে। আঘাত তাঁর কান হয়ে মুখ পর্যন্ত নেমে এসেছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার ও সুন্দরম নামের একটি আবৃত্তি সংগঠনের পরিচালক হাসান রাজা বলেন, হামলার খবর শোনার পরপর তিনি ছুটে যান ঘটনাস্থলে। একজন গৃহকর্মী একটি বাচ্চা নিয়ে স্কুলে যাচ্ছিলেন। তিনি হাসান রাজাকে বলেছেন, দুজন যুবককে একটি মোটরসাইকেলে গলি পার হয়ে যেতে দেখেছেন তিনি। এরপরই চিৎকার ও কান্নার আওয়াজ শুনতে পান।
অধ্যাপক রেজাউলের সহকর্মীরা জানিয়েছেন, তিনি সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি ‘কোমলগান্ধার’ নামে নিজের প্রতিষ্ঠিত একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর লেখায় বা বক্তব্যে কখনো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার কোনো নজির পাওয়া যায়নি।
তাঁর সহকর্মী অধ্যাপক শহীদুল্লাহ বিবিসিকে বলেন, একজন সহকর্মী তাঁকে আজই জানিয়েছেন যে কয়েক দিন আগে কয়েকজন শিক্ষকের কাছে উড়ো চিঠি পাঠানো হয়েছিল এই বলে যে ‘বিভাগের কোনো কোনো শিক্ষক ক্লাসে নাস্তিকের মতো কথাবার্তা বলেন’। তবে চিঠিতে কোনো শিক্ষকের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বেলা দেড়টার দিকে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিকেল সোয়া চারটার দিকে শালবাগান সিঅ্যান্ডবি মাঠে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বাদ আসর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় জানাজা হয়। বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌর এলাকার দরগামাড়িয়া মহল্লায় তৃতীয় জানাজা শেষে সন্ধ্যায় পারিবারিক কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
নিহত অধ্যাপকের ছেলে রিয়াসাত ইমতিয়াজ বাদী হয়ে গতকাল দুপুরে বোয়ালিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলাটি তদারকির জন্য রাজশাহী নগরের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, উপকমিশনার (পশ্চিম), সহকারী কমিশনার (বোয়ালিয়া জোন), মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার ও বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে।
অধ্যাপক রেজাউল ১৯৫৫ সালের জানুয়ারিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৮৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন। ২০০৬ সালে অধ্যাপক পদে তাঁর পদোন্নতি হয়। তাঁর দুই সন্তান। মেয়ে রিজওয়ানা হাসিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ করেছেন। ছেলে রিয়াসাত ইমতিয়াজ রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) পুরকৌশল স্নাতক বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী।
সংস্কৃতিমনা ছিলেন রেজাউল: অধ্যাপক রেজাউল সেতার বাজাতেন। গতকাল বাসায় তাঁর শোয়ার ঘরে গিয়ে দেখা যায়, বিছানার ওপরে তার প্রিয় সেতারটা রাখা। সেতারের ‘কেইস’টা মেঝেতে। দেখে মনে হচ্ছে, হয়তো রাতেই সেতার বাজিয়েছেন।
তাঁর প্রতিষ্ঠিত কোমলগান্ধার নামের সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য নাঈম ইমতিয়াজ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। তিনি বলেন, স্যার শহীদুল্লাহ কলাভবনের ২২৭ নম্বর কক্ষটি সাংস্কৃতিক কাজের জন্য ব্যবহার করতেন। অন্যান্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরাও সেটা ব্যবহার করতেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে কোমলগান্ধার নামে একটি ছোটকাগজ বের করতেন স্যার। এবার ষষ্ঠ সংখ্যা বের হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরাই লিখতেন। স্যার লিখতেন সম্পাদকীয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানান, অধ্যাপক রেজাউল হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে ইংরেজি বিভাগ আজ রোববার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। গতকাল বিকেলে ইংরেজি বিভাগের একাডেমিক কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অন্য বিভাগগুলোকেও একই কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে বিভাগের পক্ষ থেকে। এই তিন দিন সকাল ১০টায় সিনেট ভবনের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি গতকাল দুপুর ১২টা থেকে ক্লাস বর্জন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আজ রোববারও ক্লাস বর্জন কর্মসূচি চলবে। এ ছাড়া সারা দেশের সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্র ধর্মঘট পালনের ডাক দিয়েছেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
গতকাল দিনভর প্রতিবাদমুখর ছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে সকাল সোয়া ১০টা থেকে পৌনে এক ঘণ্টা ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে ১১টায় ক্যাম্পাসের শহীদুল্লাহ কলাভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল ছাত্রজোট। দুপুর পৌনে ১২টায় ইংরেজি বিভাগের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন বিভাগের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। সোয়া ১২টায় সিনেট ভবনের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।
সমাবেশে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. শহীদুল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিলেন অধ্যাপক রেজাউল করিম। তিনি বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় যেন বধ্যভূমিতে পরিণত হয়েছে। এখানে একের পর এক শিক্ষক হত্যার ঘটনা ঘটছে। আমরা আর কোনো হত্যা দেখতে চাই না।’
পরীক্ষা ও ক্লাস বর্জন: অধ্যাপক রেজাউল হত্যার পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি গতকাল সন্ধ্যা সাতটায় জরুরি বৈঠকে বসে। বৈঠক শেষে রাত ১১টার দিকে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাহ আজম শান্তুনু সাংবাদিকদের বলেন, আজ রোববার ও আগামীকাল সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষাসহ সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম থেকে তাঁরা বিরত থাকবেন। এই দুই দিন শিক্ষকেরা মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ এবং উপাচার্যের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করবেন। পরবর্তী সময়ে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি জানান, অধ্যাপক রেজাউল করিমের গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার দরগামাড়িয়া গ্রামে। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। তাঁর চাচাতো বোন স্থানীয় দরগামাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহানারা বেগম বলেন, রেজাউল করিম প্রায়ই গ্রামে আসতেন। এলাকায় ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন ফোকলোর সম্পর্কে তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করতেন এবং ভিডিও ধারণ করতেন।
অধ্যাপক রেজাউল এলাকার শিশু-কিশোরদের জন্য গানের স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন। ওই সংগীত বিদ্যালয়ের সভাপতি রাজু আহমেদ জানান, একজন সংগীতশিক্ষক রেখে এলাকার শিশু-কিশোরদের গান শেখাতেন অধ্যাপক রেজাউল। সব খরচ তিনিই বহন করতেন।

নিন্দা ও প্রতিবাদ: অধ্যাপক রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডের নিন্দা, প্রতিবাদ ও অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, অতীতের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হওয়ায় জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো তাদের হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে।
শরীফ নূরুল আম্বিয়া ও নাজমুল হক প্রধানের নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এক বিবৃতিতে অবিলম্বে দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে। একই দাবিতে বিবৃতি দিয়ে বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী বলেছে, এ ধরনের কোনো হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার না হওয়ায় খুনি চক্র তাদের হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে।
নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিও।

Wednesday, March 23, 2016

ক্রিকেটার নিষিদ্ধ হলে আন্দোলন হয়, ধর্ষণে নয়!


কার যেন ফেসবুক স্ট্যাটাসে পড়লাম, এদেশে কোনো ক্রিকেটার নিষিদ্ধ হলে যতটা আন্দোলন হয়, তনুদের ধর্ষণ হলেও ততটা আন্দোলন হয় না। আমাদের আবেগের বিপরীতে গেলেও কথাটা সত্য। তাসকিন আর সানিকে সন্দেহজনক বলিং অ্যাকশনের কারণে আইসিসি নিষিদ্ধ করার পর দেশজুড়ে আন্দোলন হবে স্বাভাবিক। আর একজন তনুর দেহ খুবলে খেয়ে কিছু ‘বীরপুরষ’ গলাকেটে ঝোপঝাড়ে ফেলে গেছে, এ নিয়ে এত মাতামাতির কী আছে? 
রোববার রাতে (২০ মার্চ) ময়নামতি সেনানিবাসের অলিপুর এলাকায় একটি কালভার্টের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তনুর লাশ। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের (সম্মান) শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনুকে (১৯) ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। তিনি এই কলেজেরই নাট্য সংগঠন ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের (ভিসিটি) সদস্য ছিলেন।
মঞ্চের ‘আঁধারি আলো’ই মানুষের মনে জ্বালায় মনুষত্বের আলো। সেই আলোয় নিজেকে আলোকিত করতেই চেয়েছিল তনু, সোহাগী জাহান তনু। নাট্যচর্চায় পরিশুদ্ধ মানুষ হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কিছু নরপশুর মনুষত্বের অভাবে চলে যেতে হল দুনিয়া ছেড়েই। তার স্বপ্নের নীল আকাশে আক্রোশের নীল ছেয়ে গেল। সেই উড়ে বেড়ানো পেঁজা তুলার মতো সাদা মেঘগুলো ক্রমেই কালো থেকে কালো হয়ে হারিয়ে গেল নিমিষেই।
গণমাধ্যমে জেনেছি, তনু কুমিল্লার তিতাস উপজেলার বাসিন্দা ইয়ার হোসেনের মেয়ে। ইয়ার হোসেন ময়নামতি সেনানিবাস এলাকায় অলিপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। সেই সুবাদে সোহাগীরা অনেক দিন ধরেই অলিপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছে। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে সোহাগী মেজো। পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণে সোহাগী পাড়াশোনার পাশিপাশি বাসার কাছে অলিপুর গ্রামেই এক বাসায় টিউশনি করে লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে আসছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ছবিগুলো দেখলেই বোঝা যায়, সুহাসিনী তনু। চোখেমুখে একরাশ স্বপ্ন। এমন একটা পবিত্র মুখ, দেখলেই মায়া লাগে। এমন একটা মেয়েকে নরপশুরা খুবলে খেয়ে অর্ধনগ্ন অবস্থায় কালভার্টের পাশে ঝোপঝাড়ে ফেলে রেখেছে। নিজের আশ মেটানোর পর গলাকেটে হত্যা করে গেছে তাকে।
তবে হতাশার মাঝেও আশা জাগে। আজ কজন যুবক রাজধানীর শাহবাগে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংখ্যায় গুটিকয়েক হলেও আওয়াজ ছিল হৃদয়ের। তাই জোরটাও ছিল বেশ। হয়তো কাল থেকে সারাদেশেই প্রতিবাদ জোরালো হবে। নিজেদের দায়মুক্ত করতেই প্রতিবাদটা জানাতে হবে। শাহবাগে সাংবাদিক প্রান্ত পলাশ যেমনটা বলছিলেন, ধর্ষণ এর বিরুদ্ধে সবাইকে যার যার জায়গা থেকে প্রতিবাদ জানাতে হবে এবং ধর্ষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য সরকারকে বাধ্য করতে হবে।
নারীকে ‘বীরপুরুষরা’ সবসময়ই যৌন মিলনের সঙ্গীই ভেবেছে। কখনো পাশাপাশি চলা মানুষ মনে করেনি। তাই হয়তো কখনো জোর করেই আদায় করতে চেয়েছে তার ‘হক’। সমাজ বিজ্ঞানীরা ধর্ষণের সঠিক প্রভাবক আবিষ্কার করতে না পারলেও, সেডো-ম্যাসকিজমের (Sadomasochism) কথা সবাই কমবেশি স্বীকার করেছেন। অর্থাৎ ভিকটিম কে শারীরিক ও মানসিক ভাবে লাঞ্ছিত করে ইন্দ্রিয় সুখ লাভ। সব মানুষের মধ্যে কিছু পশুত্ব সুপ্ত থাকে এবং মানবিক গুণাবলীর অনুপস্থিতিতে ক্রোধ, হতাশা বা প্রতিশোধ পরায়ণতার কারণে সেই পশুত্বের প্রকাশ ঘটে। 
তবে সবচেয়ে বড় কথা, এ প্রবৃত্তি বাড়ছেতো বাড়ছেই। এর বড় কারণই কিন্তু এ প্রবণতাকে লাই দেয়া। বিচারে লঘু দণ্ড বা কোনো মতে রক্ষা পাবার আশা ধর্ষণের মুল প্রণোদনা। অন্তত আমাদের দেশের জন্য।

তনুর ঘটনা নিশ্চয়ই এদেশে প্রথম নয়। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত চার হাজার ৪৩৬ নারী ধর্ষণসহ বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এরমধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১ হাজার ৯২ নারী। বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এ রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পর্যালোচনা অনুযায়ী, ২০১৫ সালে ৮৪৬ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ধর্ষণ পরবর্তী সময়ে ৬০ জনকে হত্যা করা হয় এবং ধর্ষণের কারণে আত্মহত্যা করেন ২ জন। যেখানে ২০১৪ সালে ৭০৭ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হন। এর মধ্যে ধর্ষণ পরবর্তী সময়ে ৬৮ জনকে হত্যা করা হয় এবং ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেন ১৩ জন।
এগুলোতো পত্রপত্রিকায় এসেছে এমন ঘটনার তালিকা। যারা এসব সহ্য করে মুখ বুজে থাকেন তাদের হিসাব। এর বাইরের হিসাবটা আরো কত বড় হতে পারে তা অনুমান করা কঠিন। তবে আমার সবচেয়ে আশ্চর্য লেগেছে এটা জেনে যে, ঘটনাটি ঘটেছে এমন এলাকায় যেখানে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সেনা সদস্যরা থাকেন। একটা ক্যান্টনম্যান্ট এলাকার ভেতরে এমন দুর্ধর্ষ ঘটনা ঘটানোর সাহস হয় কার? 
শুনেছি হত্যার বিষয়ে সোহাগীর পরিবার যেন কোনো তথ্য দিতে না পারে, সেজন্য দিনভর তাদের নজরদারিতেও রাখা হয়েছিল। বন্ধ করে রাখা হয় তাদের মোবাইল ফোনও। এমনকি সোহাগীর সহপাঠীদেরও সেখানে যেতে দেয়া হয়নি। কেন? 
সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ‘সেনানিবাস আইন, ২০১৬’-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হয়। ১৯২৪ সালের ক্যান্টনমেন্ট অ্যাক্ট দিয়ে এতদিন বাংলাদেশের সেনানিবাসগুলো পরিচালিত হয়ে আসছিল। তবে প্রস্তাবে সেনাবাহিনীর কোনো মতামত নেয়া হয়নি। ফলে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে আইনটি আবার ওই মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
ভাবছেন এই ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে ক্যান্টনমেন্ট আইনের সম্পর্ক কী? আছে। এ ঘটনাই প্রমাণ করে ক্যান্টনম্যান্টের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও কখন হয়তো থেকে যেতে পারে কোনো ‘নরপশু’। তাদের কারণে আমাদের সবচেয়ে গৌরবের একটা বাহিনী নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলা যেন না হয় সেজন্য সচেতন থাকতে হবে সেনাবাহিনীকেও। এগিয়ে আসতে হবে তনু হত্যার বিচারে।
ভুমিকায় আসি আরেকবার। তাসকিন কিংবা সানি নিষিদ্ধ হয়েছেন, সেটা যেমন আমাদের জাগিয়ে তুলেছে, সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফির কান্না যেন আমাদের আবেগে ভাসিয়েছে। তেমনি যে কোনো নৃশংসতা আমাদের কাঁপিয়ে তুলুক, সেটাইতো প্রত্যাশা। ভালো থাক তনুরা।